
টিসিবির ডিলার নিয়োগে অস্বচ্ছতার অভিযোগ
- আপলোড সময় : ২১-১২-২০২৪ ১২:৪৭:২৪ পূর্বাহ্ন
- আপডেট সময় : ২১-১২-২০২৪ ১২:৪৭:২৪ পূর্বাহ্ন


রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) ডিলার নিয়োগে অস্বচ্ছতার অভিযোগ উঠেছে। ডিলার নিয়োগে অনেকটা গোপনে আবেদন গ্রহণ এবং হঠাৎ করে তা বন্ধ করে দেয়া হয়। প্রত্যেক বাণিজ্যমন্ত্রীর আমলেই টিসিবিতে নতুন করে পরিবেশক নিয়োগ দেয়া হয়েছে। বিগত সরকারের আমলে মন্ত্রী ও সংসদ সদস্যের তদবিরে অনেক ডিলার নিয়োগ হয়েছিল। এখন তাদের মধ্যে যাদের কাগজপত্রের ঘাটতি রয়েছে টিসিবি তাদের বাদ দেয়ার প্রক্রিয়া শুরু করেছে টিসিবি। বিপরীতে নতুন করে ডিলার নিয়োগেরও উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। কিন্তু নতুন নিয়োগের ক্ষেত্রে উঠেছে অস্বচ্ছতার অভিযোগ। ডিলার এবং টিসিবি সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা যায়। সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, দেশে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের আগে বিএনপি-জামায়াত সমর্থকদের অনেকেই মামলা-হামলার ভয়ে পালিয়ে ছিলেন। এখন তাঁরা স্বাভাবিক জীবনযাত্রায় ফিরেছেন। তাঁদের অনেকেই এখন পরিবেশক হওয়ার জন্য আবেদন করতে আগ্রহী। কিন্তু গণমাধ্যমে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ ছাড়াই টিসিবি নতুন আবেদন গ্রহণ করেছে। ডিলার হতে আগ্রহীদের দাবি, নতুন করে পরিবেশক নিয়োগের আবেদন নেয়া হোক আর পরিবার কার্ডও প্রকৃত গরিবদের জন্য করা হোক। সূত্র জানায়, বর্তমানে সারা দেশে টিসিবির ৮ হাজার ২৭৩ জন ডিলার রয়েছেণ। দেশে টিসিবির ১৪টি আঞ্চলিক কার্যালয় থেকে তাঁদের তত্ত্বাবধান করা হয়। তবে ওসব পরিবেশকের অনেকেই এখন আর কাজ করছে না। যদিও টিসিবির মতে কাজ না করা পরিবেশকের সংখ্যা খুবই কম। পরিবার কার্ডধারী ব্যক্তিরা টিসিবির ডিলারদের কাছ থেকে প্রতি মাসে ১০০ টাকা দরে ২ লিটার ভোজ্যতেল, ৬০ টাকা দরে ২ কেজি মসুর ডাল এবং ৩০ টাকা দরে ৫ কেজি চাল কিনতে পারেন। ডিলাররা প্রতি কেজিতে কমিশন পান ৫ টাকা। ওই কমিশনের মধ্য থেকে মূল্য সংযোজন কর বা ভ্যাট বাবদ কেজিতে ৪৮ পয়সা কেটে নেয়া হয়। ডিলারদের মাধ্যমে টিসিবির পণ্য বিক্রির জন্য সরকারের পক্ষ থেকে এক কোটি পরিবার কার্ড করার কথা থাকলেও এখন পর্যন্ত জাতীয় পরিচয়পত্রের (এনআইডি) সঙ্গে মিলিয়ে ৫৭ লাখ কার্ড করা হয়েছে। তাঁদের স্মার্ট কার্ড দেয়া হয়েছে। বাকি ৪৩ লাখ কার্ডও দেয়া হবে। সূত্র জানায়, টিসিবির পক্ষ থেকে নতুন করে পরিবার কার্ড দেয়ার কাজ করতে কিছুটা সময় লাগছে। কারণ অনেক ক্ষেত্রেই এক জাতীয় পরিচয়পত্রের বিপরীতে একাধিক পরিবার কার্ড রয়েছে। আবার এক পরিবারে রয়েছে একাধিক ব্যক্তির নামে কার্ড। তাছাড়া মুঠোফোন নম্বরের মিল না থাকা এবং নতুন ও পুরোনো আইডি দিয়ে আলাদা কার্ড তৈরির মতো ঘটনাও রয়েছে। এসব সমস্যার সমাধান করে নতুন কার্ড দিতে কিছুটা সময় লাগছে। বর্তমানে ঢাকা আঞ্চলিক কার্যালয়ের অধীনে ১ হাজার ৭১৮ জন, চট্টগ্রাম আঞ্চলিক কার্যালয়ে ২৮৭, বগুড়ায় ৭৭৯, খুলনায় ৫১৫, রংপুরে ৬৩১, বরিশালে ৫০০, রাজশাহীতে ৩৮৩, দিনাজপুরে ২২৩, মৌলভীবাজারে ৪২৭, ময়মনসিংহে ৮১৭, কুমিল্লায় ৪৬৭, মাদারীপুরে ৪৬৭, ঝিনাইদহে ৪৬৩ এবং গাজীপুরে ৪৬১ জন টিসিবির ডিলার রয়েছেন। এদিকে নতুন ডিলার নিয়োগ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ ডিলারস অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ফরিদ উদ্দিন আহমেদ জানান, টিসিবির নতুন ডিলার নিয়োগ প্রয়োজন। তার জন্য তিন হাজারের মতো নতুন আবেদনও জমা পড়েছে, যেগুলো যাচাই-বাছাই চলছে। বর্তমানে কোনো কোনো এলাকায় পরিবেশক কম, কিন্তু পরিবার কার্ডের সংখ্যা বেশি। আবার কোনো কোনো এলাকায় রয়েছে উল্টো চিত্র, অর্থাৎ পরিবেশকের তুলনায় কার্ডধারী মানুষের সংখ্যা কম। নতুন করে পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দিয়ে পরিবেশক নিয়োগের বিষয়টি টিসিবির চেয়ারম্যানের সিদ্ধান্ত। অন্যদিকে নতুন ডিলার নিয়োগে অস্বচ্ছতার বিষয়ে টিসিবির যুগ্ম-পরিচালক ও মুখপাত্র হুমায়ুন কবির জানান, পরিবেশক নিয়োগের প্রক্রিয়া আরো স্বচ্ছ করার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। তবে পত্রিকায় সাধারণত বিজ্ঞাপন দেয়া হয় না। ওয়েবসাইটেই এ সংক্রান্ত তথ্য দেওয়া থাকে। খাদ্য অধিদপ্তরের পরিবেশক নিয়োগের ক্ষেত্রেও তাই হয়। প্রশ্ন উঠায় পরিবেশক নিয়োগের বিষয়ে বিজ্ঞাপন দেয়ার বিষয়টি ভবিষ্যতে চিন্তা করা হবে।
কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ